'সূর্যোদয়' ছোট গল্প, লেখা: নাসিম কবির
'সূর্যোদয়' লেখা: নাসিম কবির কলেরা মহামারীতে গ্রামটা মৃত্যুপুরীতে রুপান্তরিত হলো। কলেরার ভয়ে কেউ কারো বাড়ি যাচ্ছে না। ঘরে ঘরে মৃত্যু বার্তা। প্রাণচঞ্চল গ্রামে হঠাৎ শোকের ছায়া নেমে আসলো। মাঝেমধ্যে কাকের কাকা ডাকে মুখর চারদিক। চারদিক ঘেরা সবুজ গাছ, লতাপাতা স্থির হয়ে থমকে আছে। হয় তো গাছগুলো শোকাচ্ছন্নে নিরব কান্নায় মগ্ন। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু এর চমৎকার আবিষ্কার এসকোনোগ্রাফ যন্ত্রের মাধ্যমে বুঝা যায় উদ্ভিদেরও জীবন আছে। আল্লাহর সৃষ্টি কতোই না রহস্যময়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। কুঁড়েঘরে প্রদীপ নিভু নিভু করছে। ঘরের মেঝেতে শীতলপাটি বিছানো, খাইরুন্নেসা অসুস্থ স্বামীর মাথার কাছে ছয় মাসের ছোট্ট হিমুকে নিয়ে বসে আছে। আকব্বর আলি কলেরায় আক্রান্ত, তিনি মৃত্যুর প্রহর গুনছে। খাইরুন্নেসার চোখ দিয়ে পানি গাল গড়িয়ে আসে। এই অজপাড়াগাঁয়ে কোন ডাক্তারের খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য। অধিকাংশ মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। থাকার মধ্যে মতলব কবিরাজ তিনি গাছের লতাপাতা দিয়ে ঔষধ বানিয়ে দেয়। যা গ্রামের মানুষের একমাত্র সম্বল। সবে কিছুদিন হলো দেশ ভাগ হয়েছে। ভারতবর্ষের পূর্ব অংশকে পূর্ব পাকিস্তান নাম দেয়া হয়েছে। হিন্দু ধর্মের...