Posts

Showing posts from 2022

চন্দ্র নিশীথ লেখা: নাসিম কবির

  চন্দ্র নিশীথ লেখা: নাসিম কবির 'স্যার ম্যাগপাই হতে চাই।' ইকবাল সাহেব অবাক হয়ে বলল, 'মাথা ঠিক আছে তোমার?' 'জ্বী স্যার, ম্যাগপাই হয়ে দেউড়ির সজনে গাছটায় বসে থাকতে চাই। ' ইকবাল সাহেব মুচকি হেসে চশমা খুলে মুছতে মুছতে বলল, 'মৃত্যুর পরে পশু-পাখি হয়ে ফিরে আসা বিশ্বাস করো?' ইব্রাহিম ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ইকবাল সাহেবের দিকে ঝুকে বসে বলা শুরু করলো, 'জ্বী না স্যার, তবে খুব ইচ্ছে জাগছে মনে। আমি ম্যাগপাই হয়ে ফিরে আসি। এক লাফে এক ডাল থেকে অন্য ডালে বসবো। আমার হালকা ভারে হলদে পাতা গুলো ঘুরেঘুরে নিচে পড়বে।' ইকবাল সাহেবের মুচকি হাসি খিলখিল করে হাসিতে রুপান্তরিত হলো ইকবাল সাহেবের বাগান বাড়ি ইব্রাহিম দেখাশোনা করে। ওনার মুখে খোঁচা খোঁচা আধপাকা দাড়ি। চুল গুলো খুব পরিপাটি, সুযোগ পেলেই ফতুয়ার পকেট থেকে চিরুনি বের করে তা দিয়ে চুল ঠিক করতে ব্যস্ত। তিনি খুব রসিক মানুষ, সেই সুবাদে ইকবাল সাহেবের মনে ইব্রাহিম স্থান করে নিয়েছে। মাঝেমধ্যে ইব্রাহিমের অদ্ভুত অদ্ভুত কান্ড ইকবাল সাহেবকে সহ্য করতে হয় তবুও বিরক্তি আসে না হেসে উড়িয়ে দেয়। ইব্রাহিম কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে ইকবাল সাহেবকে ...

ছন্নছাড়া লেখা: নাসিম কবির

  ছন্নছাড়া লেখা: নাসিম কবির হিজল গাছে পাখির কিচিরমিচিরে ঘুম ভেঙে গেলো। জমিদার বাড়ির পুকুর ঘাটের সিমেন্টেরের চেয়ারে ঘুম ভেঙে অভি চুপচাপ বসে আছে। অন্যদিকে কোকিল ডাকছে। উপরে তাকিয়ে কোকিলকে দেখা গেলো না। কোকিলের কন্ঠ বেশ ভাল, তাতে চেহারা না দেখাই ভাল। বৈশাখ মাস প্রায় শেষের দিকে। এই সময় চারদিক অন্ধকার করে আসে ঝড়োবাতাসের সাথে বৃষ্টি হয়। অন্ধকার হবার মুহুর্তে কোকিলের ডাক শুনতে বেশ ভাল লাগে। আজ মাঝেমধ্যে সূর্য মেঘের জন্য ঢেকে যাচ্ছে। যেকোন সময় বৃষ্টি আসতে পারে। বড্ড ক্ষিদে পেয়েছে। অভির গায়ে ময়লা জামা, মলিন পায়ে হেঁটে গেলো জমিদার বাড়ির ভাঙা প্রাচীরের ভেতর। ব্যাগের উপরে রাখা শুকনো রুটি চিবাতে লাগলো। খুব শক্ত হয়ে গিয়েছে। জীর্ণ দেয়ালের পাশে তার প্রিয় কুকুর ঝিমাচ্ছে। অভি রুটি ছিড়ে কুকুরকে বলল, নে খা। খুব কষ্ট করছস আজ। আমাকে সকালে ঘুম ভাঙাবি না একদম। কাল একদম ভাঙাবি না। আজ সারারাত জ্যোৎস্না দেখবো। অভির কথা শুনে কুকুরটা পা সামনে বাড়িয়ে লেজ নাড়াচ্ছে। তা সম্মতির লক্ষন। সকালে কুকুর কোথা হতে রুটিটা কামড় দিয়ে অভির মাথার কাছে রেখে মুখ দিয়ে ঠেলে অভিকে ওঠালো। বিরক্ত হয়ে অভি হিজল গাছের নিচে ঘুম দিলো। এখন ...

সাঁঝবেলার রোজনামচা লেখা: নাসিম কবির

  সাঁঝবেলার রোজনামচা লেখা: নাসিম কবির মাথার উপর প্রচন্ড জোরে ফ্যান ঘুরছে, সাথে আমার মাথাটাও ঘুরছে। আমার ডাকে মীম ছুটে এলো। 'ফ্যানটা অফ কর' মীম ফ্যান অফ করতে করতে বলল, এতো গরম, তোমার গরম লাগে না ভাইয়া? আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে, 'নাহ, একটা কম্বল দিয়ে যা।' মীম তাড়াহুড়ো করে রুম হতে বেরিয়ে গেলো। মিনিট পাঁচেক পর কাঁধে করে একটা কম্বল নিয়ে হাজির। 'ভাই এই নাও কম্বল' আমি একনজরে তার দিয়ে তাকিয়ে আছি। বুদ্ধিমতী মেয়ে হলে আমার চোখের ভাষা বুঝে নিতো। তার দিকে তাকিয়ে বললাম, 'আমার গায়ে দিয়ে দে।' আমার কথা মতো মীম গায়ে কম্বল দিয়ে রুম থেকে চলে গেলো। কম্বলের গরমে শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছে। তা গা থেকে সরিয়ে বসে পড়লাম, মাথা ঘুরানো কমছে না। মাথা ঘুরানো কারন হচ্ছে মা-বাবার পছন্দের পাত্রীর ছবি টেবিলের উপর রেখে গিয়েছে মীম। বিয়ে করতে চাচ্ছি না, বউ নামে মানুষ গুলো স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। সবসময় দৌড়ের উপর রাখে। বন্ধুদের তিক্ত অভিজ্ঞতায় আমার বিয়ের সাধ মিটে গিয়েছে। কিছুদিন বাড়ির বাহিরে থাকা হলে বিয়ের কথা শুনা হতে দূরে থাকার উত্তম পরিকল্পনার অন্যতম হবে। প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল...

মরীচিকা লেখা: নাসিম কবির

  মরীচিকা লেখা: নাসিম কবির চৈত্রের দুপুরের কাঠফাটা রোদে শুকনো পাতা দিয়ে আমেনা রান্না করছে। ছেলেটা একটু পরে কাজ শেষে ক্ষেত থেকে আসবে। সকালে কিছু খেয়ে যায় নি। তাই আমেনা তাড়াহুড়ো করছে রান্নার জন্য। প্রচন্ড রোদে আগুনের তাপে আমেনা চোখে মরীচিকা দেখছে। রান্না প্রায় শেষের দিকে। আগুনের তাপে কপাল বেয়ে পানি নেমে আসছে। আমেনা খাতুনের ছেলে অভি বাড়িতে ডুকলো। অভি ক্লান্ত শরীর নিয়ে মাটিতে বসে পড়লো, শরীর যেন আর চলছে না। -''মা' ইকটু পানি দাও।'' আমেনা খাড়িতে করে মুড়ি এগিয়ে দিয়ে ছেলেকে বলল, ''মুড়ি খাইয়া পানি খা বাবা, রান্না হইয়া গেছে।'' -''কি রান্ধো?'' -''শাখ, আলু ভাজি করছি।'' অভির মায়ের করা আলু ভাজি খুব পছন্দ। অভি, ''বলল যাই মা, গোসোল দিয়া আই।'' তা বলে অভি ঘরে গিয়ে কাঁধে লুঙ্গি নিলো পুকুর পাড়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। হঠাৎ অভির মোবাইল বেজে ওঠলো। অনু কল দিলো। অভি অনুকে প্রচন্ড ভালবাসে। অনু পড়াশোনার জন্য ঢাকার কোন এক নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বিপরীতে অভি গ্রামের এক ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়। ছাত্র হিসেবে অভি খুব ভাল। কিন্তু...